প্রতিটি মানুষ কখনো না কখনো মানসিক বিপর্যস্ততায় পতিত হয়েছে। অনেক সুস্থ মানুষও পারিপাশ্বিকতার শিকার হয়ে নিজেকে মানসিক রোগী ভাবেন। আবেগতাড়িত হয়ে অনেকে অনেক অস্বাভাবিক কাজ করে ফেলেন কিন্তু সময়ে তা আবার সামলে নেন অর্থাৎ তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় না। কিন্তু যখন সাময়িক বা স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে অস্বাভাবিক অবস্থা কিছুদিন বা বহুদিন অবস্থান করে তখন তাকে মানসিক অসুস্থতা বলা চলে।
মানসিক রোগের অনেক কারণ এখনো অজানা রয়ে গেছে। বংশগত কারণ মানসিক রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও বর্তমানে আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকেই মানসিক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাবা-মার অতিরিক্ত কড়াকড়ি শাসন, ভয়ংকর গল্প ইত্যাদি বাচ্চাকে মানসিকভাবে অসুস্থ হতে ইন্ধন যোগায়। মনের মধ্যে চেপে রাখা ক্ষোভ মানসিক অসুস্থতার অন্যতম কারণ। পারিবারিক জটিলতা, হতাশা, দারিদ্র ও অর্থনৈতিক সমস্যা। প্রবঞ্চনা, উপেক্ষা, অহেতুক ভয়, বেকারত্ব, দুঃশ্চিন্তা, আবেগজনিত চাপ, দাম্পত্য অশান্তি, মৃত্যুশোক, মানসিক আঘাত, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্ঘটনা, কুসংস্থার, যৌনব্যাধি প্রভৃতি বিষয় মানসিক রোগ সৃষ্টির সহায়ক উপকরণ। মাসিক, গর্ভধারণ, যৌনভীতি, সন্তান প্রসব, মেনোপজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মহিলাদের মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
মানসিক রোগের লক্ষণ
# সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা
# দায়িত্ব গ্রহণে অক্ষমতা
# বন্ধুত্ব গড়তে বা তা বজায় রাখতে অক্ষমতা
# ভ্য় প্রকাশ করতে অক্ষমতা
# আবেগ সংবরণ করতে অক্ষমতা
# অপছন্দনীয় বিষয় বা বাস্তবতা মোকাবেলা করতে অক্ষমতা
# অতীতের অপ্রীতিকর স্মৃতি ভুলে যেতে অক্ষমতা
# অতীতের আবেগজনিত ভুল থেকে শিক্ষা নিতে অক্ষমতা
# সব সময় অজানা আশাংকার মধ্যে থাকা
# কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া নিজেকে অবিরাম অসুখী ভাবা
# নিয়মিত ঘুম না হওয়া
# সহজেই মেজাজ বিগড়ে যাওয়া
# সব সময় বিষন্নতায় ভোগা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন